প্রবীণ জনগোষ্ঠী, কোভিড-১৯ ও বাংলাদেশ

সমগ্র বিশ্বের প্রতিটি দেশেরই জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ও অনুপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি দেশের জনসংখ্যার আকার ও বয়সকাঠামো কেমন হবে তা নির্ভর করে জন্মহার, মৃত্যুহার ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ার ওপর। জনমিতিক সংক্রমণ মডেল অনুযায়ী জন্মহার ও মৃত্যুহার কমে গেলে জীবন আয়ুষ্কাল বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে মোট জনসংখ্যার বয়সকাঠামোতে আনুপাতিক আকারে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে পপুলেশন এইজিং বলা হয়ে থাকে যার পরিমাপে বয়স্ক মানুষের নির্ভরশীলতার হারকে বিবেচনায় নেয়া হয়। পপুলেশন এইজিংকে শুধু বয়সের মানদণ্ডে নয় ভিন্ন মাত্রায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও পরিমাপ কৌশলে আগানোর ক্ষেত্রেও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে গতবছর ফেব্রুয়ারি মাসের ২৫-২৬ তারিখে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ, এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইন্সস্টিটিউট ফর এপ্লাইড সিস্টেম এনালাইসিস ও চুলালংক্রন বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের এক সভা আয়োজন করে যে সভায় আমি আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিয়েছিলাম। সেখানে আমরা পপুলেশন এইজিংকে নতুন পরিমাপে শুধু বয়স নয় তবে বহুমুখী পরিমাপে বিশ্লেষণ ও বোঝার বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলাম যার মাধ্যমে গবেষণা ও নীতি-কৌশলের সাথে যোগসূত্র করা যায়। মুলতঃ আমরা সেখানে হেলদি এইজিং-এর কথা বলেছি – যেখানে ব্যক্তির কার্যক্রম সক্ষমতা ও স্বকীয় সামর্থ্যই ছিল মুখ্য। সে আলোচনায় এখন না যাই। বর্তমানে সনাতন ধরণা অনুযায়ী, পপুলেশন এইজিং সমগ্র বিশ্বব্যাপী উন্নত ও উন্নয়নশীল সব দেশেই লক্ষ্য করা যাছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা ২০১৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে ৬০ বছর বা ঊর্ধ্বে যারা রয়েছে তাদের প্রবীণ বলে স্বীকৃত। পরবর্তীতে তাদের সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বয়সের মানদণ্ডে বর্তমানে বাংলাদেশে ৮% মানুষ ৬০ বছর কিংবা উপরে (২০১৯ সালে বিবিএস প্রকাশিত রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাপল ভাইটাল স্ট্যাটিক্টিস ২০১৮-এর তথ্যে) রয়েছে যা জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের প্রক্ষেপন অনুযায়ী ২০৩০ সালে পৌঁছে যাবে প্রায় ১২ শতাংশে। জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন এইজিং রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ৬৫ বছর ও উপরে জনগোষ্ঠী রয়েছে ৫.২%। আর ভারতে ৬৫ বছর ও উপরে রয়েছে ৬.৪%, পাকিস্তানে ৪.৩%, নেপালে ৫.৮%, শ্রীলংকায় ১০.৮% এবং ভুটানে ৬.১%। এ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নানাবিধ সমস্যার সন্মুখীন হয়ে থাকেন চাহিদার পরিসরে। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বয়সভেদে বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশ ও অঞ্চল ভেদে করোনাভাইরাস সংক্রমণে ভিন্নতা দেখা গেলেও এক্ষেত্রে প্রবীণ জনগোষ্ঠীই অধিকতর মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈশ্বিক উপাত্তেও লক্ষ্যণীয়। আর এ বয়স্ক মানুষদের করোনাভাইরাসের সাথে অন্যন্য রোগ থাকলে কো-মরবিডিটি (যেমন উচ্চ রক্ত চাপ, ডাইবেটিস, ফুসফুসে সমস্যা) থাকলে তাদের করোনাভাইরাসে অধিকতর মৃত্যুঝুঁকি লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আক্রান্তদের অধিকাংশই পুরুষ ও মধ্য-বয়সী হলেও প্রবীণরাই অধিকতর মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে দেশের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুঝুঁকিতে থাকা এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দিকে প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। জাতিসংঘ জনসংখ্যা উন্নয়ন কর্মসূচির ‘টেস্ট অব ওয়ার্ল্ড পপুলেশন ২০১৯’ রিপোর্ট অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ১৬৮.১ মিলিয়নকে ভিত্তি ধরে ওয়ার্ল্ড এইজিং রিপোর্ট ২০১৯ অনুযায়ী ৫.২ শতাংশকে বিবেচনায় নিলে ৬৫ বছর ঊর্ধ্ব মানুষ দেশে ২০১৯ সালেই ছিল ৮৭ লক্ষ ৪১ হাজারের অধিক জন। আর বিবিএস-২০১৮ সালের এসভিআরএস অনুযায়ী ৬০ বছর ঊর্ধ্ব ৮.০ শতাংশ হিসাবে করলে ২০১৮ সালেই দেশে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ মানুষ ছিল। ২০১১ সালের গৃহ ও জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশের অধিক এ জনগোষ্ঠী অর্থনৈতিকভাবে অক্ষম অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমান কোভিড-১৯ সংকটকালে এ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছেন। বিপুল সংখ্যক এ প্রবীণের খুব কম শতাংশই ভোগ করে থাকেন পেনশন বা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা। বেশিরভাগেরই নিজের সঞ্চয়, সম্পত্তি কিংবা সন্তানের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় তাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সালে ‘এ স্টাডি অন ওল্ডার পপুলেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় দেশের ৭ বিভাগের ৬,৩২৯ জন বয়স্ক মানুষকে জরিপ করা হয়। জরিপের পাশাপাশি ঐ সকল বিভাগ ভিত্তিক প্রবীণ ব্যক্তিদের নিয়ে ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন, কেস স্টাডি ও প্রাসঙ্গিক ‘কি ইনফরমেন্টস’ থেকে তথ্যও সংগ্রহ করা হয়। ঐ গবেষণায় আমি নিজেও একজন গবেষক ছিলাম। জরিপের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে গ্রাম পর্যন্ত গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। ঐ গবেষণায় আমরা প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জীবনধারণ ব্যবস্থা, আর্থসামাজিক ও জনমিতিক অবস্থা, যত্ন-সহযোগিতা, স্বাস্থ্য ও রোগব্যাধি-চিকিৎসা, জীবন ও সম্পদের আত্ননিয়ন্ত্রণ, অপব্যবহার-শোষণ, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় কর্মসূচি, পারিবারিক ও সামাজিক সংযুক্তি, দুর্যোগে সমস্যা, অন্যান্য সমস্যাসহ ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিলাম। ঐ গবেষণায় সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের ক্ষেত্রে দেখতে পেয়েছি- বয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রতি ৪ জনে ১ জন কোনো না কোনো ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা পেয়ে থাকেন তবে তাদের মধ্যে প্রতি ৩ জনের ১ জনই এ সহায়তা নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অপর্যাপ্ত অর্থই এ ক্ষেত্রে প্রধান কারণ। তাছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি, ভোগান্তিসহ অন্যান্য দিকও গবেষণায় বিস্তারিতভাবে উঠে আসে। বর্তমানে এমন সময়ে এ লেখাটি লিখছি যখন বাংলাদেশে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতির সময়। কিছুদিন পরই সরকার বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ২০১৮-২০১৯ সালে বাজেটে বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমে ২৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল যা ২০১৯-২০২০ সালে হয়েছে ২৬৪০ কোটি টাকা। ১৯৯৮ সাল থেকে প্রবর্তিত দরিদ্র অসহায় প্রবীণদের প্রথমবারের মতো বয়স্ক ভাতা ১০০ টাকা চালু করেছিল যা ২০১৫-২০১৬ সালে যখন আমরা মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করেছিলাম তখন ভাতা দেওয়া হতো ৩০০ টাকা। বর্তমানে একজন প্রবীণ মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন। সরকারী তথ্যে জানা যায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে ৩১ লক্ষ প্রবীণ এ সহযোগিতা পেয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান সার্বিক প্রেক্ষপটে বিশেষ করে বাজারদর, কোভিড-১৯ ও সুপার সাইক্লোন আম্পান প্রেক্ষাপটে এ পরিমাণ টাকা একজন প্রবীণের জীবন ধারণের জন্য খুবই অপ্রতুল। তাই সরকারকে বলতে চাই এ বয়স্ক জনগোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ নজর দিন, পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখুন ও তা বাস্তবায়ন করুন। বাজেটে লক্ষ্যণীয় বরাদ্দ বাড়াতে হবে। প্রবীণদের এ সংকটকালে আপদকালীন বয়স্ক ভাতা ৩,০০০ টাকা করা যেতে পারে যা স্বাভাবিক অবস্থায় না যাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখা দরকার।

বর্তমান কোভিড-১৯ মহামারী সংক্রমণের কারণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ছে। ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ মহামারী জনসংখ্যার বয়স, লিঙ্গ বা জেন্ডার, এথনিসিটিতে জীবন-পর্যায় চক্রে ভিন্নতা সৃষ্টি করছে। এমন কী গ্রাম-শহর, বস্তিতে – এমন কী প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ মহামারী থেকে পরিত্রাণে সেবাগ্রহণের সুযোগ ও সক্ষমতায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দ্রুত জানা দরকার কী পরিমাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠী সুরক্ষাহীনতায় রয়েছে। ক্রমধারা কেমন এবং সরকার বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কিভাবে কতটুকু এক্ষেত্রে এগিয়ে আসছে। নীতিনির্ধারকদের এ সকল নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ জানাটা খুবই জরুরি। করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় গত ৫ এপ্রিল সরকার যে ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন সেখানে সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে – লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ, বয়স্ক ভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতা সর্বাধিক দারিদ্র্যপ্রবণ ১০০টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করার কথাও বলা হয়েছে। এটি আশাপ্রদ হলেও সুপার সাইক্লোন আম্পান পরবর্তীতে বয়স্ক জনগোষ্ঠীসহ অন্যদের সুরক্ষায় নতুন করে ভাবতে হবে এবং গৃহীত কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

এ মুহূর্তে বর্তমান দুর্যোগময় অবস্থায় দেশের প্রবীণ জনগণ করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে এবং এ থেকে অধিকতর মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের খাদ্য চাহিদার সংস্থান, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা প্রদান ও কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার যাতে না হন সেদিকে আমাদের সজাগ থাকতে হবে।এ ক্ষেত্রে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। প্রবীণদের জাতীয় পরিচয়পত্রের পাশাপাশি বিশেষ প্রবীণ কার্ড প্রদানের মাধ্যমে সকল স্থানে সকল ধরনের সেবা বিশেষ করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে এবং বেসরকারি পর্যায়ে সর্বনিম্ন ডিসকাউন্ট খরচে নিশ্চিত করা। পাশপাশি মাসে ন্যূনতম ৩,০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা যেতে পারে। সন্তানরা প্রবীণ পিতা-মাতার ভরণপোষণ করছে কী না তা মনিটরিং করা এবং প্রয়োজনে শাস্তির আওতায় এনে বাস্তবায়ন করা। করোনাকালীন এ সময়ে সংবাদ মাধ্যমে দেখতে পেয়েছি– করোনা আক্রান্ত সন্দেহে প্রবীণ পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের নির্মম ব্যবহারের কথা – যেমন, বনের মধ্যে রেখে ফেলে আসা, জানাজা বা লাশ সৎকারে এগিয়ে না আসা – এগুলো শুধু হতাশার ব্যাপার নয় বরং অমানবিকও বটে।

বর্তমান করোনাকালে প্রবীণদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বাংলাদেশকে একটি প্রবীণহিতৈষী দেশ হিসেবে দেখতে চাই। সকল সময়েই প্রবীণদের প্রতি কোনো বৈষম্য নয় বরং সমাজে তাদের সম্মান নিশ্চিত রাখতে হবে। তাদের বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রবীণদের দায় হিসাবে মনে না করে দেশের জন্য মুল্যবান রিসোর্স হিসাবে ভাবতে হবে। তাদেরকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে পারলে দ্বিতীয় জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জন করা সম্ভব হবে। তবে এ কথা ঠিক যে, বৈশ্বিক পরিমন্ডলে সর্বত্রই ব্যক্তি স্বতন্ত্রবাদে জীবনাচরণে পরিবর্তন এসেছে – পরিবার কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। যৌথ বা বর্ধিত পরিবারের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে অনু পরিবার। গ্রাম-শহরে উভয় জায়গাতেই বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পরিবারভিত্তিক সাপোর্ট যেন কমে এসেছে। সন্তানহীন বয়স্ক মানুষদের চাহিদার ভিত্তিতে বিশেষ বাসস্থান বা হোমস প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালুকরণ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বয়স্কদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আলাদা করে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। হাসপাতালগুলোতে স্বতন্ত্র জেরিয়াট্রিক কেয়ার এবং বাড়ি বাড়ি ভিত্তিক সেবা প্রদানের বিষয়টি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সঠিক স্থানে রাখতে হবে। এক কথায় বাড়ন্ত এ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি, পেনশন ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় জনসংখ্যা নীতি, স্বাস্থ্যনীতি, প্রবীণ নীতিমালা, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনসহ প্রাসঙ্গিক নীতি-কৌশলগুলো পরিমার্জন করা দরকার। সরকার ও বেসরকারি সকল পর্যায় থেকেই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিপিডি) কর্মসূচি, মাদ্রিদ আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা ও ২০৩০ সালের টেকসই বা বজায় যোগ্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে – প্রবীণ জনগোষ্ঠীসহ সকল মানুষের জীবনের গুণগত মান উন্নয়নে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top